শিশুর হাম হলে কি করবেন শিশুকে কি খাওয়াবেন আর কি খাওয়াবেন না
শিশুর হাম হলে কি করবেন শিশুকে কি খাওয়াবেন আর কি খাওয়াবেন না এ তথ্যগুলো জানানোর জন্যই আজকের আর্টিকেলটি লেখা। বর্তমান সময়ে প্রায় সর্বত্রই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হামে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রেই বড়দেরও হাম হয়ে থাকে।
আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারবেন হাম হলে কি করবেন? হামের লক্ষণগুলো কি কি? হাম হলে শিশুদেরকে কি কি খাবার খাওয়াবেন আর কি কি খাবার খাওয়ানোর যাবে না। হাম হলে করণীয় কি? হাতের চিকিৎসা কি এ ধরনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে।
পেজ সূচীপত্র
হাম কাকে বলে বা হাম কি
হাম ভাইরাস জনিত একটি রোগ যা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যে ভাইরাসের কারণে হাম হয় সেই ভাইরাসটির নাম হলো 'রুবিওলা মরবিলিভাইরাস (Rubeola morbillivirus)। চ্যাপটা লাল দাগের মতো র্যাশ বা ফুসকুড়ি যা একত্রে উঁচু হয়ে শরীরে বিভিন্ন অংশে বা সারা শরীরে উঠতে পারে। হাম, জার্মান মিজেলস (Measles) নামেও পরিচিত। হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে বা সংক্রামক ব্যাধি বা রোগ।
হামের লক্ষণগুলো কি কি
হাম অস্বস্তিকর ভাইরাসজনিত একটি রোগ। হাম হলে যে লক্ষণগুলো দেখা যায় সেগুলো হলো
- সারা শরীরে চ্যাপ্টা লাচে ফুসকুড়ি উঠে, যেগুলো অনেক সময় একত্রে উঁচু হয়ে উঠতে পারে।
- শরীরের বিভিন্ন অংশে চুলকাতে পারে,
- প্রচন্ড জ্বর হতে পারে,
- শরীর লাল হয়ে যেতে পারে,
- কাশি হতে পারে,
- চোখ লাল হতে পারে,
- চোখ দিয়ে পানি ঝরতে পারে। ইত্যাদি।
শিশুর হাম হলে কি করবেন বা করনীয় কি
উপরে উল্লেখিত হামের লক্ষণগুলো দেখা দেয়ার সাথে সাথে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। ডাক্তার রোগীকে ভালোমতো দেখে, উনি বলবেন যে এটা আসলেই হাম না অন্য কিছু। যদি হাম শনাক্ত হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ খেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ গ্রহণ করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত জ্বরের কারণে রোগীর বমি হতে পারে, এতে ভয়ের কিছু নেই। সাধারণত ৭-১০ দিনের মধ্যেই হাম ভালো হয়ে যায়। শিশু কিম্বা বড়দের হাম হলে করণীয় বা যা করবেন -
- রুগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে,
- রুগীকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে,
- কিছুক্ষণ পরপর নরম কাপড় বা তোয়ালে ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রোগীর গা মুছে দিতে হবে,
- হাম ছোঁয়াচে রোগ সেজন্য রুগীকে আলাদা ঘরে রাখাটা ভালো,
- মশারির মধ্যে রাখা উত্তম। ইত্যাদি।
হাম হলে শিশুকে কি খাওয়াবেন
হাম হলে শিশু কিংবা বড় মানুষ সকলেই মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়ে। সেজন্য হাম থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। হাম হলে যে সকল খাবার খাওয়াতে হবে সেগুলো হলো -
- পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে,
- ফলের রস (বিশেষ করে কমলা ও লেবুর রস) খেতে হবে,
- পুষ্টিকর খাবার ও স্যুপ বা ঝোল জাতীয় লিকুইড খাবার খেতে হবে,
- কুসুম গরম দুধ, ডিমসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে,
- পর্যাপ্ত পরিমাণে টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। ইত্যাদি।
হাম হলে শিশুদের কি কি খাওয়ানো যাবে না
হাম হলে খুব দ্রুত শিশু কিংবা বড় সকলেই মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়ে। দুর্বলতা কাটানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যেমন জরুরী তেমনি কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো ক্ষতির কারণ হতে পারে। সেজন্য নিম্নোক্ত খাবারগুলো এই সময়ে না খাওয়াই উত্তম।
- অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া যাবে না,
- চর্বিযুক্ত ও ভাজা খাবার খাওয়া যাবে না,
- অতিরিক্ত জালযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না,
- ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাওয়া যাবে না। ইত্যাদি।
হামের চিকিৎসা
ভাইরাস জনিত রোগের কারণে হামের সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। হাম হলে সাধারণত লক্ষণ অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শক্রমে শরীরে জ্বর বা ব্যথা থাকলে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে এবং ইচিং বা চুলকানি থাকলে এন্ট্রিহিসস্টামিন জাতীয় ঔষধ খেতে হয়। হাম সাধারণত শিশুদের বেশি হয়। সেজন্য ৬ থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা নিলে এ রোগ সাধারণত হয় না। হামের লক্ষণগুলো তীব্র হলে রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।
আরও পড়ুন ঃ
উপসংহার
প্রিয় পাঠক বৃন্দ, হাম ভাইরাসজনিত একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি বা ছোঁয়াসে রোগ, যা লক্ষণ প্রকাশের সাথে সাথে সঠিক রোগ নির্ণয়, যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে এর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যেই এই রোগীগুলো সুস্থ হয়ে উঠে। হামের প্রকোপ কমাতে ৬ থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুদের টিকা নেওয়া জরুরী। আপনার শিশুকে সময়মত টিকা দিন হামের প্রকোপ থেকে রক্ষা করুন।
আশা করি, আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা হাম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তথ্যগুলো জানতে পেরেছেন ও উপকৃত হয়েছেন। এ ধরনের আরও আপডেট তথ্য পাওয়ার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন, আর আর্টিকেলটি শেয়ার করে দিন যেন অন্যান্য পাঠক বন্ধুরাও এ তথ্যগুলো জানতে পারেন। সর্বোপরি আপনার শিশুর হাম মুক্ত, সুস্থ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url