পৃথিবীর বর্তমান জলবায়ু ও আবহাওয়া | বদলে যাচ্ছে কি আমাদের গ্রহ?
পৃথিবীর বর্তমান জলবায়ু ও আবহাওয়া | বদলে যাচ্ছে কি আমাদের গ্রহ? পৃথিবীর জলবায়ু ও আবহাওয়া সবসময়ই পরিবর্তনশীল। কোথাও প্রচণ্ড গরম, কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও তুষারপাত আবার কোথাও খরা! এসব প্রকৃতির স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার অনেক ধরনের ঝুঁকি ও তীব্রতা চরম ভাবে বাড়ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা World Meteorological Organization (WMO) এর সর্বশেষ State of the Global Climate 2025 প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ এই ১১টি বছরই পর্যবেক্ষণ ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ ১১ বছর। ২০২৫ সাল ছিল রেকর্ডের দ্বিতীয় বা তৃতীয় উষ্ণতম বছর। আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারবেন জলবায়ু ও আবহাওয়া কী? নেপাল-তিব্বতের ভয়াবহ বন্যা সহ অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে।
পেজ সূচীপত্র
আবহাওয়া কী?
অনেক সময় আবহাওয়া (Weather) এবং জলবায়ু (Climate) কে একই বিষয় মনে করা হয়। কিন্তু দুটির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আবহাওয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের বায়ুমণ্ডলের অবস্থা।যেমন আজ ঢাকায় বৃষ্টি হচ্ছে, রাজশাহীতে প্রচণ্ড গরম এবং কোনো অঞ্চলে ঝড় হচ্ছে। সহজভাবে বলা যায়, আবহাওয়া হলো আজকের গল্প।
জলবায়ু কী?
জলবায়ু হলো কোনো অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার সাধারণ ধরণ। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট দিনের তাপমাত্রা জলবায়ু নয়; বহু বছর ধরে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বাতাস ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেই জলবায়ুর প্রবণতা বোঝা যায়। সহজভাবে বলা যায়, জলবায়ু হলো বহু বছরের ইতিহাস।
আরও পড়ুন ঃ চাঁদে প্রথম মানুষ নীল আর্মস্ট্রং ও অ্যাপোলো ১১ এর ইতিহাস।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা World Meteorological Organization (WMO)
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা World Meteorological Organization (WMO) এর তথ্য মতে, আজকের পৃথিবীর জলবায়ু যেন ধীরে ধীরে এমন এক অবস্থার দিকে এগোচ্ছে যেখানে চরম গরম, ভারী বৃষ্টিপাত, দাবানল, খরা ও শক্তিশালী ঝড় মানুষের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
পৃথিবী কি আগের চেয়ে বেশি উষ্ণ হচ্ছে?
পৃথিবী কি আগের চেয়ে বেশি উষ্ণ হচ্ছে? হ্যাঁ। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। WMO এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০২৫ সালে ভূপৃষ্ঠের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব যুগের ১৮৫০–১৯০০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ১.৪৩°C বেশি ছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সমুদ্রের তাপও পর্যবেক্ষণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন ঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কি? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জনক কে? জেনে নিন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা World Meteorological Organization +1
পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, শিল্পকারখানা, পরিবহন, বন উজাড় ও অন্যান্য মানব কর্মকাণ্ড এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তবে প্রাকৃতিক কারণও আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে। যেমন El Niño ও La Niña পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের ধরনকে পরিবর্তন করতে পারে।
আরও পড়ুন ঃ ঠান্ডা বা শীতে মাথা ব্যাথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস জেনে নিন।
সমুদ্র ক্রমেই উষ্ণ হচ্ছে
পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সমুদ্র। পৃথিবীর অতিরিক্ত তাপের একটি বড় অংশ সমুদ্র শোষণ করে। WMO জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সমুদ্রের তাপের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। গত দুই দশকে সমুদ্র প্রতি বছর মানবজাতির মোট বার্ষিক শক্তি ব্যবহারের প্রায় ১৮ গুণের সমপরিমাণ তাপ শোষণ করেছে।
সমুদ্র উষ্ণ হওয়ার ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, প্রবালপ্রাচীর, মাছের আবাসস্থল এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব পড়তে পারে। উষ্ণ সমুদ্র শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের জন্যও বেশি শক্তি সরবরাহ করতে পারে, যদিও কোনো নির্দিষ্ট ঝড়ের শক্তি শুধু সমুদ্রের তাপমাত্রা দিয়ে নির্ধারিত হয় না।
গলে যাচ্ছে হিমবাহ, বাড়ছে ঝুঁকি
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের হিমবাহ ও বরফ স্তর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সংকুচিত হচ্ছে। হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে হিমবাহ, তুষার ও বরফের পরিবর্তন হঠাৎ বন্যা, ভূমিধস এবং হিমবাহ সংক্রান্ত দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এমন ঝুঁকির একটি নাটকীয় উদাহরণ দেখা গেছে ২০২৬ সালের আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে।
আরও পড়ুন ঃ দ্রুত ওজন কমানোর দশটি টিপস জেনে নিন।
২০২৬ সালের নেপাল-তিব্বত ভয়াবহ বন্যা
আগস্ট ২০২৬ এর শেষদিকে হিমালয় অঞ্চলে একটি ভয়াবহ দুর্যোগ ঘটে। নেপালের লাংটাং অঞ্চলে বরফ-শিলা ধসের পর নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। এর ফলে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক বন্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়। ২৮ আগস্টের Reuters প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ৫৫০-এর বেশি এবং প্রায় ১,০০০ মানুষ নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল; উদ্ধার অভিযানও নতুন বন্যার ঝুঁকিতে বাধাগ্রস্ত হয়। (Reuters +1)
আরও পড়ুন ঃ রেমিটেন্স কি বা রেমিটেন্স কাকে বলে জেনে নিন।
রয়টার্স (Reuters)
এই ঘটনাকে সরাসরি শুধুমাত্র জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা ঠিক হবে না, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, বরফ-শিলা ধস, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন কারণ এমন দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলের উষ্ণায়ন ও হিমবাহের পরিবর্তন এ ধরনের পরিবেশকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় পাহাড়ের বরফ শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়; এটি একটি বিশাল প্রাকৃতিক জলাধার। সেই ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রভাব পাহাড় ছাড়িয়ে মানুষের জীবনেও পৌঁছে যায়।
ইউরোপে ২০২৬ সালের ভয়াবহ দাবানল
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ভয়াবহ দাবানল দেখা গেছে। Reuters এর আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপে ৫৭৬,০০০ হেক্টরেরও বেশি এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে। বেলজিয়াম, স্পেন, গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আগুন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
বেলজিয়ামের High Fens অঞ্চলে ২০২৬ সালের আগুন দেশটির রেকর্ডে সবচেয়ে বড় দাবানলে পরিণত হয়। তীব্র গরম ও খরা আগুন ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিল। Reuters
তবে এখানেও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—দাবানলের আগুন লাগার সরাসরি কারণ অনেক সময় মানুষের কর্মকাণ্ড বা বজ্রপাত হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন সাধারণত গরম ও শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি করে আগুন দ্রুত ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়, কিন্তু প্রতিটি আগুনের একক কারণ নয়। Reuters
El Niño এবং ২০২৬ সালের আবহাওয়া
২০২৬ সালে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু বিষয় হলো El Niño। El Niño হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, যা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৬ সালের আগস্টে Reuters জানায়, পূর্বাভাস অনুযায়ী বছরের শেষদিকে শক্তিশালী El Niño তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা, ভূমিধস, খরা, কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই আগামী মাসগুলোতেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। Reuters +1
২০২৫ সালের বড় বড় জলবায়ু দুর্যোগ
শুধু ২০২৬ নয়, ২০২৫ সালেও পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, দাবানল ও তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। WMO জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তীব্র তাপ, ভারী বৃষ্টিপাত এবং শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। World Meteorological Organization এর তথ্য মতে,২০২৫ সালের উল্লেখযোগ্য দুর্যোগগুলোর মধ্যে ছিল:
- দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভয়াবহ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়,
- ভারত ও পাকিস্তানে প্রাণঘাতী ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা,
- গ্রিস ও তুরস্কসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানল,
- ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় ধরনের দাবানল,
- বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ,
- শক্তিশালী টাইফুন ও অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়
- একটি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টি জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগে ১২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল। The Guardian +1
বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকিতে?
বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর কারণ শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়; দেশের ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বড় একটি অংশ নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত এবং দেশের ওপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:
- ১. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ঃ উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- ২. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ঃ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য বড় হুমকি।
- ৩. অতিবৃষ্টি ও বন্যা ঃ স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই জলাবদ্ধতা ও বন্যা হতে পারে।
- ৪. তাপপ্রবাহ ঃ গরমের সময় দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষি ও শ্রম উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
- ৫. নদীভাঙন ও বাস্তুচ্যুতি ঃ বন্যা, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং উপকূলীয় ক্ষয়ের কারণে বহু মানুষ বসতভিটা হারাতে পারেন।
ভবিষ্যৎ কি আরও উষ্ণ হবে?
বর্তমান প্রবণতা নিয়ে বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। WMO এর ২০২৫ - ২০২৯ সালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, আগামী পাঁচ বছরের অন্তত একটি বছর ২০২৪ সালের রেকর্ড উষ্ণতাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮০%। একই সময়ে অন্তত একটি বছরের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫°C-এর বেশি হওয়ার সম্ভাবনা ৮৬%। তবে কোনো একটি বছর ১.৫°C-এর ওপরে যাওয়া আর দীর্ঘমেয়াদি ১.৫°C উষ্ণতা সীমা অতিক্রম করা এক বিষয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বোঝার জন্য বহু বছরের গড় বিবেচনা করতে হয়।
আমরা কি কিছু করতে পারি?
জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। একজন মানুষ একা পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন থামাতে পারবেন না, কিন্তু ব্যক্তি, সমাজ, সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে -
- জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো,
- সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তি বাড়ানো,
- বন সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ,
- শক্তির অপচয় কমানো,
- গণপরিবহন ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবহার,
- শহরে সবুজ এলাকা বৃদ্ধি,
- বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা,
- জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও অবকাঠামো তৈরি করা, ইত্যাদি।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও বলছে, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং জলবায়ু-তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শেষ কথা
পৃথিবীর জলবায়ু কোনো স্থির ছবি নয়; এটি একটি চলমান গল্প। কিন্তু সেই গল্পের গত কয়েকটি অধ্যায়ে পরিবর্তনের গতি আগের তুলনায় অনেক বেশি ও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উষ্ণ হয়ে উঠছে পৃথিবী, উষ্ণ হচ্ছে সমুদ্র, গলছে হিমবাহ এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা, দাবানল, খরা ও ঝড়ের মতো দুর্যোগ।
প্রকৃতি আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, এমনটা বলা হয়তো ভুল! বরং প্রকৃতি তার নিয়মেই চলছে; পরিবর্তিত পৃথিবীতে নিজেদের কর্মকাণ্ডের পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছে মানুষ। আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই শুধু “আবহাওয়া কতটা খারাপ হবে?” বরং প্রশ্নটি হওয়া উচিত “আমরা কতটা প্রস্তুত একটি পরিবর্তিত জলবায়ুর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য?”


aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url