কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জনক কে জেনে নিন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জনক কে? এই তথ্যগুলো জানানোর জন্যই আজকের আর্টিকেলটি লেখা। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI)। চ্যাটবট, স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট, রোবট, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি থেকে শুরু করে বিজ্ঞান ও চিকিৎসা প্রায় সব ক্ষেত্রেই এখন AI এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জনক কে জেনে নিন

আজকের এই আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারেন AI অর্থাৎ Artificial Intelligence এই প্রযুক্তির পেছনের ইতিহাস কী? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক কে? এরকম নানান বিষয় সম্পর্কে। চলুন পাঠক বন্ধুরা আর দেরি না করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যগুলো নিচের অংশ পড়ে জেনে নেই।

 পেজ সূচীপত্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি বা কাকে বলে 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI (Artificial Intelligence) হলো  যন্ত্রে বা কম্পিউটারের এমন একটি ক্ষমতা, যার মাধ্যমে তারা মানুষের মতো তথ্য বিশ্লেষণ করে, চিন্তা করে, নতুন বিষয় শেখাতে ও সমস্যার সমাধান করতে পারে। তথ্য যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে নতুন সিদ্ধান্ত নিতেও সহায়তা করতে পারে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জনক কে

যার বদলেতে মানুষ-জন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিয়ে থাকে ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপকৃত হয়ে থাকে। এই প্রযুক্তির পেছনের ইতিহাস কি? এই ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন জন ম্যাকার্থি (John McCarthy)। তাকে সাধারণভাবে “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক" (Father of Artificial Intelligence) বলা হয়। জন ম্যাকার্থির সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিম্নরূপ - 

  • পূর্ণ নাম ঃ জন ম্যাকার্থি (John McCarthy),
  • জন্ম ঃ ০৪ সেপ্টেম্বর ১৯২৭,
  • জন্মস্থান ঃ বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস, যুক্তরাষ্ট্র,
  • পেশা ঃ কম্পিউটার বিজ্ঞানী,
  • মৃত্যু ঃ ২৪ অক্টোবর ২০১১,
  • মৃত্যুকালে বয়স ঃ ৮৪ বছর,
  • পরিচিতি ঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক।

জন ম্যাকার্থি'র জন্ম ও শৈশব

জন ম্যাকার্থি জন্মগ্রহণ করেন ৪ সেপ্টেম্বর ১৯২৭ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন শহরে। পরে তার পরিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে যায় এবং সেখানেই তিনি বেড়ে উঠেন। ছোটবেলা থেকেই গণিতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি নিজের আগ্রহে স্কুলের পাঠ্যক্রমের বাইরেও উচ্চতর গণিতের বিভিন্ন বিষয় পড়াশোনা করতেন। গণিতের প্রতি এই আগ্রহ পরবর্তীতে তার কম্পিউটার বিজ্ঞানে ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন ঃ অনলাইনে ইনকাম করার ১৪ টি সহজ উপায়।

জন ম্যাকার্থি'র শিক্ষাজীবন

জন ম্যাকার্থি California Institute of Technology (Caltech) এ গণিত নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৪৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি Princeton University তে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ১৯৫১ সালে গণিতে PhD ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের সময় থেকেই তিনি এমন একটি সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করেন যে, মানুষের মতো বুদ্ধিমানভাবে কোনো যন্ত্র কি চিন্তা বা কাজ করতে পারে?

আরও পড়ুন ঃ স্মার্টফোন ব্যবহারে শিশুদের কি কি ক্ষতি করে জেনে নিন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্ম

জন ম্যাকার্থির জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান আসে ১৯৫০ এর দশকে। ১৯৫৫ সালে তিনি Dartmouth College এ একটি গবেষণা প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরিতে অংশ নেন। সেই প্রস্তাবেই তিনি “Artificial Intelligence” শব্দটি ব্যবহার করেন। পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৫৬ সালে, Dartmouth College এ একটি ঐতিহাসিক গবেষণা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ম্যাকার্থির ধারণা ছিল, মানুষের বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন দিককে যথেষ্ট নির্ভুলভাবে বোঝা ও প্রকাশ করা গেলে কম্পিউটারকেও সেই ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করতে সক্ষম করা সম্ভব। যদিও AI এর উন্নয়নে অনেক বিজ্ঞানীর অবদান রয়েছে, তবে AI কে একটি স্বতন্ত্র গবেষণাক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় জন ম্যাকার্থির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

LISP প্রোগ্রামিং ভাষা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এর পাশাপাশি কম্পিউটার বিজ্ঞানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো LISP প্রোগ্রামিং ভাষা। জন ম্যাকার্থি ১৯৫৮ সালে LISP এর উন্নয়ন শুরু করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণার জন্য এই ভাষাটি বিশেষভাবে কার্যকর ছিল। LISP এর মাধ্যমে কম্পিউটারকে বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী তথ্য নিয়ে কাজ করানো সহজ হয়েছিল। ফলে AI গবেষণার শুরুর দিকে LISP ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন ঃ ছাত্র জীবনে অনলাইনে ইনকাম করার ৮টি সহজ উপায় সম্পর্কে জানুন।

MIT ও Stanford এ কাজ

জন ম্যাকার্থি তার কর্মজীবনে Princeton, Dartmouth, MIT এবং Stanford University এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। MIT তে তিনি AI গবেষণার প্রাথমিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে তিনি Stanford University তে যোগ দেন এবং সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার বিকাশে বড় ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৫ সালে তিনি Stanford Artificial Intelligence Laboratory (SAIL)-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হন। এই গবেষণাগার পরবর্তীতে AI, রোবোটিক্স, কম্পিউটার ভিশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার কেন্দ্র হয়ে উঠে।

আরও পড়ুন ঃ স্মার্টফোন কেনার সময় যে ১৩ টি বিষয়ে খেয়াল রাখবেন।

কম্পিউটার টাইম-শেয়ারিং

জন ম্যাকার্থির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল কম্পিউটার টাইম-শেয়ারিং ধারণার বিকাশ। সেই সময় কম্পিউটার ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য ছিল না। টাইম-শেয়ারিং পদ্ধতির মাধ্যমে একই কম্পিউটারের ক্ষমতা একাধিক ব্যবহারকারী ভাগ করে ব্যবহার করতে পারতেন। এই ধারণা পরবর্তীতে আধুনিক ইন্টারেক্টিভ কম্পিউটিং ব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জন ম্যাকার্থি'র পুরস্কার ও সম্মাননা

জন ম্যাকার্থি তার অবদানের জন্য জীবদ্দশায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ACM A.M. Turing Award লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৮৮ সালে Kyoto Prize এবং ১৯৯০ সালে U.S. National Medal of Science লাভ করেন।

জন ম্যাকার্থি'র শেষ জীবন ও মৃত্যু

জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত জন ম্যাকার্থি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা চালিয়ে যান। অবসর নেওয়ার পরও তিনি প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন ধারণা ও চিন্তাভাবনা প্রকাশ করতেন। তিনি ২৪ অক্টোবর ২০১১ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার Stanford এ নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৮৪ বছর।

উপসংহার

আশা করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কি কৃত্রিম বুদ্ধিমতার (AI) জনক কে এ সম্পর্কিত আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যগুলো জানতে পেরেছেন ও উপকৃত হয়েছেন। জন ম্যাকার্থির অবদান আধুনিক প্রযুক্তির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি Artificial Intelligence নামটি জনপ্রিয় করার পাশাপাশি AI কে একটি স্বতন্ত্র গবেষণাক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি LISP প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরি করেন এবং কম্পিউটার টাইম-শেয়ারিংয়ের ধারণার বিকাশেও অবদান রাখেন।

আজকের AI প্রযুক্তি তার সময়ের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। তবুও আধুনিক AI গবেষণার অনেক ভিত্তি সেই প্রাথমিক সময়ের গবেষণা থেকেই তৈরি হয়েছে। এই কারণেই জন ম্যাকার্থি আজও ইতিহাসে “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক” হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। এরকম আরও আপডেট তথ্য পাওয়ার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন আর আর্টিকেলটি শেয়ার করে দিন যেন অন্যান্য পাঠক বন্ধুরাও এই তথ্যগুলো জানতে পারেন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url