লিওনেল মেসি | আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা

লিওনেল মেসি আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা হয়ে উঠার গল্পটা অনেকেই হয়তো জানেন আবার অনেকেরই অজানা! বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে যেসব খেলোড়ার কিংবদন্ত হয়ে উঠেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন মহাতারকা ও আধুনিক ফুটবল রাজা লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। আধুনিক ফুটবলে শ্রেষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে তাঁকেই মনে করা হয়। যদিও ফুটবলের চিরন্তন "রাজা" বলা হয় ব্রাজিলের কিংবদন্তি খেলোড়ার পেলে ( Pele) কে।

লিওনেল মেসি আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা

আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারবেন আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা ও রাজার বিভিন্ন রেকর্ড ও ফুটবলের ক্রিড়া শৈলী সম্পর্কে। মেসির ক্রিড়া শৈলী ও বিভিন্ন অর্জনের কারণে তাঁকে আর্জেন্টাইন তারকা দিয়াগো ম্যারোডোনার উত্তরসূরী হিসেবে ভক্তরা মেসিকেই মনে করে থাকেন। তো বন্ধুরা আর দেরি না করে চলুন এই মহা তারকার উত্থানের গল্প জেনে নেওয়া যাক।

পেজ সূচীপত্র

লিওনেল মেসির পরিচয়

লিওনেল মেসি ও আধুনিক ফুটবলের মহাতারকার পরিচয় নিম্নে আলোচনা করা হলো।

  • পুরো নাম ঃ লিওনেল আন্দ্রেস মেসি (Leonel Andres Messi),
  • জন্ম তারিখ ঃ ২৪ জুন ১৯৮৭,
  • জন্মস্থান ঃ রোসারিও, আর্জেন্টিনা,
  • পজিশন ঃ ফরোয়ার্ড / অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার,
  • জাতীয় দল ঃ আর্জেন্টিনা,
  • বর্তমান ক্লাব ঃ ইন্টার মায়ামি।

লিওনেল মেসির শৈশব ও ফুটবলে যাত্রা

লিওনেল মেসির জন্ম আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ফুটবলের প্রতি অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন। ছোট বেলায় মাত্র ৪ বছর বয়সেই তিনি স্থানীয় ক্লাব নেওয়েলস ওল্ড বয়েজের যুব দলে খেলতে শুরু করেন। শৈশবে মেসির শারীরিক বৃদ্ধির সমস্যা ধরা পড়ে এবং তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

এই পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবারের জন্য চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর স্পেনের বার্সেলোনা মেসির প্রতিভা দেখে তাঁকে তাদের যুব একাডেমিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসি স্পেনে পাড়ি জমান এবং বার্সেলোনার বিখ্যাত যুব একাডেমি La Masia তে যোগ দেন।

আরও পড়ুন ঃ নেইমার ফুটবলের অপূর্ণ এক মহাকাব্য।

লিওনেল মেসি বার্সেলোনার যুব দল থেকে মূল দলে

মেসি বার্সেলোনার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে দ্রুত নিজেকে প্রমাণ করেন। তাঁর অসাধারণ ড্রিবলিং, গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও গোল করার ক্ষমতা সবাইকে মুগ্ধ করে। ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর মাত্র ১৭ বছর বয়সে মেসির বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হয়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি বার্সেলোনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

আরও পড়ুন ঃ বাংলাদেশ ক্রিকেটের আদ্যপ্রান্ত জেনে নিন।

লিওনেল মেসির সোনালি সময় বার্সেলোনা যুগ

বার্সেলোনায় মেসির ক্যারিয়ারই তাঁর জীবনের সবচেয়ে সফল অধ্যায়। তিনি বার্সেলোনার হয়ে ১৭টি মৌসুমে খেলেন। ক্লাবটির হয়ে তিনি মোট ৭৮০ ম্যাচে ৬৭২ গোল এবং ২৯১ অ্যাসিস্ট করেন। বার্সেলোনার হয়ে মেসি জিতেছেন - 

  • ১০ টি La Liga,
  • ৭ টি Copa del Rey,
  • ৮ টি Spanish Super Cup,
  • ৪ টি UEFA Champions League,
  • ৩ টি FIFA Club World Cu্‌
  • ৩ টি UEFA Super Cup,
  • বার্সেলোনার হয়ে তার সবচেয়ে স্মরণীয় সময়গুলোর একটি ছিল ২০০৮-০৯ মৌসুম। সেই মৌসুমে বার্সেলোনা ট্রেবল জেতে La Liga, Copa del Rey ও Champions League.
  • ২০০৯ সালে মেসি প্রথমবার Ballon d'Or জেতেন। এরপর তিনি বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
  • ২০১০-১১ মৌসুমে বার্সেলোনা আবার Champions League (2011) জেতে। ওয়েম্বলিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারানো সেই ফাইনালে মেসি একটি গোল করেন এবং অসাধারণ পারফরম্যান্স দেন।
  • ২০১২ সালে মেসি এক ক্যালেন্ডার বছরে ৯১ গোল করেন, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর রেকর্ড।
  • ২০১৪-১৫ মৌসুমে মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে গঠিত বার্সেলোনার বিখ্যাত MSN আক্রমণভাগ ইউরোপ কাঁপিয়ে দেয়। সেই মৌসুমে বার্সেলোনা আবার ট্রেবল জেতে।

লিওনেল মেসি বার্সেলোনার অধিনায়ক

লিওনেল মেসি আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা আর একটা এগিয়ে যান এই ২০১৮ সালে। ২০১৮ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা চলে যাওয়ার পর মেসি বার্সেলোনার অধিনায়ক হন। তাঁর অধিনায়কত্বে বার্সেলোনা আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জেতে। বার্সেলোনার ইতিহাসে মেসিই ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়।

লিওনেল মেসি বনাম আর্জেন্টিনা যুব দল

ক্লাব পর্যায়ে অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি মেসি আর্জেন্টিনার যুব দলেও সাফল্য পান। ২০০৫ সালে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে FIFA U-20 World Cup জেতেন এবং সেই টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন। ২০০৮ সালে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতেন।

আরও পড়ুন ঃ নেইমার জুনিয়র ফুটবলের এক জাদুঘরের নাম।

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেক

২০০৫ সালে মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেক হয়। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে তিনি প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৩৫৮ দিন। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে তিনি গোল করেন। এই বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি অসাধারণ ক্রিড়া নৈপুণ্যের জন্য সকলের কাছে আলোচনায় পরিণত হন।

লিওনেল মেসি ও ২০১০ বিশ্বকাপ

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে মেসি আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হেরে আর্জেন্টিনা বিদায় নেয়।

লিওনেল মেসি ও ২০১৪ বিশ্বকাপ

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে মেসি আর্জেন্টিনাকে দুর্দান্তভাবে নেতৃত্ব দেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন এবং আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে যান। ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোটশের গোলে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে হেরে যায়। মেসি সেই বিশ্বকাপের Golden Ball, অর্থাৎ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান।

লিওনেল মেসি বনাম ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকা

২০১৫ সালের Copa América-তে আর্জেন্টিনা ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায়। ২০১৬ সালের Copa América Centenario তেও একই ঘটনা ঘটে। ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারে আর্জেন্টিনা। এই পরাজয়ের পর মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি আবার জাতীয় দলে ফিরে আসেন।

লিওনেল মেসি ও ২০১৮ বিশ্বকাপ

২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব থেকে কোনোমতে নকআউটে যায়। শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে হেরে আর্জেন্টিনা বাদ পড়ে। এ সময়ও মেসির জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো ট্রফি না জেতার বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা চলছিল।

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় ট্রফি

২০২১ সালের Copa América মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনালে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারায়। এর মাধ্যমে মেসি প্রথমবার আর্জেন্টিনার সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতেন ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে।

লিওনেল মেসি বনাম ২০২২ Finalissima

২০২২ সালে আর্জেন্টিনা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষে Finalissima খেলে। আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে ইতালিকে হারায় এবং মেসি আবার একটি আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতেন।

লিওনেল মেসি ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ

এটাই মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ঐতিহাসিক অধ্যায়। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা সৌদি আরবের কাছে হেরে যায়। অনেকেই তখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেন। কিন্তু মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা এরপর একের পর এক ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে। ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল ফ্রান্স।

মেসি ফাইনালে ২টি গোল করেন। ম্যাচ ৩-৩ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা জয় পায়। আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। মেসি বিশ্বকাপের Golden Ball জেতেন এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুইবার Golden Ball জেতা প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হন। এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে মেসির সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা পূরণ হয়। তিনি বিশ্বকাপ জেতেন।

লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগদান

বার্সেলোনা ছাড়ার পর মেসি দুই মৌসুম Paris Saint-Germain (PSG)-তে খেলেন। PSG-তে তিনি দুটি Ligue 1 শিরোপা জেতেন। এরপর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে মেসি যুক্তরাষ্ট্রের Inter Miami CF-এ যোগ দেন। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির ইতিহাস বদলে যেতে শুরু করে।

লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির প্রথম ট্রফি

ইন্টার মায়ামির (Inter Miami) হয়ে মেসির প্রথম বড় সাফল্য আসে 2023 Leagues Cup-এ। মেসি টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলেন এবং ইন্টার মায়ামিকে ক্লাব ইতিহাসের প্রথম ট্রফি এনে দেন। তিনি সেই টুর্নামেন্টে Best Player এবং Top Scorer হন।

লিওনেল মেসি ও ইন্টার মায়ামির সঙ্গে সাফল্য

  • ২০২৪ সালে মেসির নেতৃত্বে ইন্টার মায়ামি MLS Supporters' Shield জেতে।
  • মেসি ২০২৪ সালে MLS-এর Landon Donovan MVP হন।
  • ২০২৫ সালে তিনি MLS Golden Boot জেতেন এবং ২৯ গোল করেন।
  • ২০২৫ সালে ইন্টার মায়ামি Eastern Conference title এবং MLS Cup-ও জেতে।

লিওনেল মেসি ও ২০২৬ বিশ্বকাপ

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলেন। FIFA অনুযায়ী এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে একজন খেলোয়াড়ের জন্য রেকর্ড ষষ্ঠ অংশগ্রহণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েন। FIFA'র হিসাবে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে ২০ গোল পর্যন্ত পৌঁছান এবং বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও গড়েন।

লিওনেল মেসির  Ballon d'Or

মেসি রেকর্ড ৮ বার Ballon d'Or জিতেছেন। তাঁর Ballon d'Or জয়ের বছর

  • ২০০৯ সালে,
  • ২০১০ সালে,
  • ২০১১ সালে,
  • ২০১২ সালে,
  • ২০১৫ সালে,
  • ২০১৯ সালে,
  • ২০২১ সালে,
  • ২০২৩ সালে,
  • এছাড়াও তিনি তিনবার The Best FIFA Men's Player পুরস্কারও জিতেছেন।

লিওনেল মেসির বড় বড় দলীয় অর্জন

মেসির ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য দলীয় ট্রফিগুলোর মধ্যে রয়েছে

বার্সেলোনা

  • ১০× La Liga,
  • ৭× Copa del Rey,
  • ৪× Champions League,
  • ৩× FIFA Club World Cup,

PSG

  • ২× Ligue,
  • ১× Trophée des Champions,

Inter Miami

  • ২০২৩ Leagues Cup,
  • ২০২৪ MLS Supporters' Shield,
  • ২০২৫ Eastern Conference title,
  • ২০২৫ MLS Cup.

আর্জেন্টিনা

  • ২০০৫ FIFA U-20 World Cup,
  • ২০০৮ Olympic Gold,
  • ২০২১ Copa América,
  • ২০২২ Finalissima,
  • ২০২২ FIFA World Cup,
  • ২০২৪ Copa América,

Inter Miami-এর হিসাবে ২০২৬ সালের মধ্যে মেসির মোট দলীয় ট্রফির সংখ্যা ৪৬টি।

লিওনেল মেসি ব্যক্তিগত রেকর্ড

মেসির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ৮× Ballon d'Or,
  • ৩× The Best FIFA Men's Player,
  • ৬× European Golden Shoe,
  • এক ক্যালেন্ডার বছরে ৯১ গোল (২০১২),
  • বার্সেলোনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা,
  • আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা,
  • আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ,
  • বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার অন্যতম রেকর্ড,
  • বিশ্বকাপে দুইবার Golden Ball জয়ী একমাত্র খেলোয়াড়,
  • বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের শীর্ষে।

মেসির খেলার ধরন

মেসিকে শুধু গোলদাতা হিসেবে দেখলে তাঁর খেলাকে পুরোপুরি বোঝা যায় না। তার সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে - 

  • ড্রিবলিং ঃ অল্প জায়গার মধ্যেও একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে যেতে পারেন।
  • বল কনট্রোল ঃ খুব দ্রুত গতিতেও বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
  • পাসিং ঃ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেন।
  • প্লে মারকিং ঃ মাঝ মাঠ থেকেও আক্রমণ তৈরি করতে পারেন।
  • ফ্রি কিক ঃ ফ্রি কিক থেকেও অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন।
  • ফিনিশিং ঃ বাঁ পায়ের নিখুঁত শট তার অন্যতম প্রধান অস্ত্র।

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গল্প

মেসির ক্যারিয়ার শুধু ট্রফি ও গোলের গল্প নয়। একজন ছোটখাটো শারীরিক সমস্যায় ভোগা শিশু রোসারিও থেকে স্পেনে যায়। এরপর বার্সেলোনার যুব একাডেমি থেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হয়ে উঠে।ক্লাব ফুটবলে প্রায় সবকিছু জেতার পরও তার জাতীয় দল নিয়ে দীর্ঘদিন প্রশ্ন ছিল, "মেসি কি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারবেন?"

২০১৪ সালে ফাইনালে হার, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার সব হতাশার পর অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে Finalissima এবং শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয় করেন। আর ২০২৬ সালে তিনি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলেন এবং বিশ্বকাপের আরও বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নেন।

উপসংহার

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারকে এক কথায় বলা যায় প্রতিভা, পরিশ্রম, ব্যর্থতা, প্রত্যাবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত পূর্ণতার গল্প।বার্সেলোনায় অসংখ্য ট্রফি, PSG-তে সাফল্য, Inter Miami-তে নতুন ইতিহাস এবং আর্জেন্টিনার হয়ে Copa América ও বিশ্বকাপ জয়, সব মিলিয়ে মেসি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজন হয় উঠেন।

তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু ৮টি Ballon d'Or বা অসংখ্য গোল নয়; বরং দীর্ঘ অপেক্ষার পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করা। লিওনেল মেসি হয়ে উঠেন বিশ্ব আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা। আর্টিকেল পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url