২০২৬ সালের ঈদ মহরমসহ সকল ইসলামিক উৎসবের দিন তারিখ জেনে নিন
২০২৬ সালের ঈদ মহরমসহ সকল ইসলামিক উৎসবের দিন তারিখ জেনে নিন । এসব বিষয়গুলো নিয়েই আজকের আর্টিকেলটি লেখা। নামাজ, রোজা, শবে বরাত, শবে কদর, ঈদ ও আশুরাসহ সকল ধর্মীয় বিধি-বিধান পালন করতে হবে আল্লাহর নির্দেশে ও নবী করিম (সা:) এর শিখানো পন্থায় সঠিক দিন-তারিখে। আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূল (সা:) এর শিখানো পন্থার ব্যতিক্রম হওয়া চলবে না। এই নির্দেশ পালন করতে গিয়ে প্রথমেই যেটি দরকার সেটি হল সঠিক সময় ও দিন-তারিখ।
সুস্থ, স্বাভাবিক ও ইসলামের নির্দোশিত বয়সে সকলকে ধর্মীয় বিধি-বিধান পালন করা জরুরী। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন ধর্মীয় বিধি-বিধান ও হালাল উপার্জন দুটিই পালনের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছেন। কোন একটিকে ছেড়ে অন্য কোন একটিকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেননি। আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারবেন শবে মেরাজ, শবে বরাত, রোজা, ঈদুল ফিতর, হজ্ব, ঈদুল আযহা ও মহরম কোন দিন-তারিখে অনুষ্ঠিত হবে সে সম্পর্কে।পেজ সুচিপত্র
২০২৬ সালের ঈদ মহরমসহ সকল ইসলামিক উৎসবের দিন তারিখ
২০২৬ সালের ঈদ মহরমসহ সকল ইসলামিক উৎসবের দিন তারিখ। চলুন জেনে নিই ২০২৬ সালে শবে মেরাজ, শবে বরাত, রোজা, শবে কদর, ঈদুল ফিতর, হজ্ব ও ঈদুল আজহাসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় ও দিন-তারিখ।
আরও পড়ুন ঃ কোরবানির পশু কেমন হওয়া উচিত জেনে নিন।
২০২৬ সালে উক্ত অনুষ্ঠানগুলোর সঠিক সময় ও দিন-তারিখ নিম্নে উল্লেখ করা হলো। আগেই বলে রাখি এই দিন-তারিখগুলো চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পরিবর্তন হতে পারে।
- শবে মেরাজ - ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার। ২৭ রজব ১৪৪৭ হিজরী।
- শবে বরাত - ৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার। ১৬ শাবান ১৪৪৭ হিজরী।
- রমজান - ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২০ মার্চ শেষ হতে পারে। (শাবান মাসের শেষে রমজানের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে তারিখ পরিবর্তন হতে পারে)।
- শব-ই-কদর - ১৬ মার্চ দিবাগত রাত সোমবার। (সরকারি ছুটি - ১৭ মার্চ, দিনটি মঙ্গলবার পড়েছে)। ২৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরী।
- জমাতুল বিদা - ২০ মার্চ, শুক্রবার। (রমজান মাসের শেষ শুক্রবার)।
- ঈদুল ফিতর - ২১ মার্চ শনিবার অথবা ২২ মার্চ রবিবার। (চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে)। ০১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরী।
- পবিত্র হজ্ব - ২৬ মে থেকে শুরু হতে পারে (চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল)। ৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরী।
- ঈদুল আযহা - ২৮ মে, বৃহস্পতিবার (চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে)। ১০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরী।
- মহররম মাস শুরু - ১৭ জুন, বুধবার (ইসলামিক (হিজরী) নববর্ষ ১৪৪৮)।
- পবিত্র আশুরা - ২৬ জুন, শুক্রবার। ১০ মহররম ১৪৪৮ হিজরী।
- আখেরি চাহার সোম্বা - ১২ আগস্ট, বুধবার। ২৭ সফর ১৪৪৮ হিজরী।
- ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) - ২৬ আগস্ট, বুধবার। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরী।
- ফাতেহা ইয়াজদাহম - ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরী।
ইংরেজি ও হিজরী ক্যালেন্ডারে দিনের কম-বেশি
২০২৬ সালের ঈদ মহরমসহ সকল ইসলামিক উৎসবের দিন তারিখ জেনে নিন। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ন্যায় আরবি বা ইসলামিক ক্যালেন্ডারেও ১২ টি মাস রয়েছে। কিন্তু এই মাসগুলো নির্ভর করে চন্দ্র উদিত হওয়ার উপর। মহরম মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হয় চন্দ্র বা হিজরী বছরের দিন গণনা। চন্দ্র উদিত ও অস্ত যাওয়ার উপর নির্ভর করে আরবি বা হিজরী বছরের দিন গণনা করা হয়। এই হিসেব মতে চন্দ্র ক্যালেন্ডার ৩৫৪ দিন বা ৩৫৫ দিনে হয়।
আরও পড়ুন ঃ টাফনিল এর কাজ খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা।
চাঁদের উদিত ও অস্ত যাওয়ার মাঝে চাঁদের ক্ষয়প্রাপ্ত দিনগুলো এখানে সামঞ্জস্য করা হয় না, ফলে হিজরী ক্যালেন্ডার এর দিনগুলো ও ইংরেজি ক্যালেন্ডার এর দিনগুলোতে ১০ থেকে ১১ দিন কম-বেশি হয়। এই জন্য আরবি দিনের হিসাবগুলো ইংরেজি ক্যালেন্ডারের চেয়ে ১০ থেকে ১১ দিন পিছিয়ে যায়। ফলে আরবি যেকোনো আচার-অনুষ্ঠানগুলো চন্দ্র উদিত হওয়ার উপর নির্ভর করে দিন-তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
উপসংহার
প্রিয় পাঠক বৃন্দ, ইসলামের বিভিন্ন উৎসবের দিন-তারিখ সম্পর্কিত আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা দিন-তারিখ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন ও সেই মতে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হতে পারবেন বলে আমি মনে করি।এই দিন-তারিখের অনুষ্ঠানগুলো আমাদের ঈমান ও আকিদাকে আল্লাহর প্রতি আরও সুদৃঢ় করে, আমলগুলোকে আরও নিখুঁত করে ও আল্লাহ সান্নিধ্য পেতে সহজ হয়।
আশা করি, আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনার ভালো লাগাটা অন্যের মাঝে শেয়ার করে দিতে ভুলবেন না প্লিজ। অন্যরাও যেন এ সম্পর্কে জানতে পারে। দিন-তারিখ অনুযায়ী এই এবাদত গুলো করার মাধ্যমে আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনকে সাফল্যমন্ডিত করতে সহায়তা করবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী নিয়ম কানুন মেনে চলুন এবং জীবনকে বরকতময় ও সাফল্যমন্ডিত করুন।

aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url